অলিখিত জোৎস্নার কাছে
তোমাকে মনে পড়লে
শহরের সমস্ত নিয়ন বাতিগুলো
কেমন নিঃশব্দে নিভে যেতে চায়।
আমি তখন একা বসে থাকি—
অর্ধেক জোৎস্না, অর্ধেক বিষণ্নতা নিয়ে
অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি খোলা জানালার দিকে,
দক্ষিণা হাওয়ায় দোলখাওয়া পর্দার ফাঁকে নীল আকাশ দেখি
ঐ আকাশের নীল আর তোমার চোখের নীল মিলেমিশে একাকার!
তোমার চোখের ভেতর যে নীল থাকে,
সেটা যেনো কোনো রঙ নয়—
সেটা বহু জন্মের জমে থাকা মায়া!
যেখানে তাকালে মানুষ
নিজের সমস্ত অভিমান ভুলে যায়!
তুমি কথা বললে মনে হয় যেনো
দূরের কোনো নদী
ধীরে ধীরে পাড়ি জমিয়েছে চাঁদের ভিতরে!
আর আমি সেই কথার ভেতর
অদ্ভুত এক শান্তি খুঁজে পাই!
তোমার হাসি—
শীতশেষের প্রথম কৃষ্ণচূড়া, প্রেমিকার হাতের বর্ষার প্রথম কদমগুচ্ছ!
তোমার নীরবতা—
ভেজা জানালায় জমে থাকা
অস্পষ্ট কোনো প্রেমপত্র!
আমি বহুবার তোমাকে ছুঁতে গিয়ে
ফিরে এসেছি কেবল সুবাস নিয়ে।
কারণ তুমি শুধু আমার প্রেমিক নও
তুমি এক গভীর মায়াবী ঋতু—
যার ভেতর প্রবেশ করলে
আর ফিরে আসা যায় না ।
তোমাকে ভালোবাসা মানে
ধীরে ধীরে নিজের ভেতর ডুবে যাওয়া,
যেন রাতের শেষ ট্রেন মিস করে ফেলা কোনো মানুষ
হেঁটে হেঁটে খুঁজে ফিরছে
একটি আলোকিত জানালা।
তুমি হয়তো জানো না—
তোমার জন্য এখনো
আমি জোৎস্নাকে বিশ্বাস করি, পাখিদের গানে মুগ্ধ হই, আকাশের রঙে নিজেকে হারিয়ে ফেলি !
জোৎস্নায় ভিজি, দখিনা হাওয়ায় এলোচুলে খোলা জানালার পাশে বসে থাকি,
এখনো বৃষ্টির শব্দ শুনলে
মনে হয় কেউ একজন
খুব গোপনে আমাকে ভালোবেসে যাচ্ছে !

0 Comments