স্টেশনে ইয়াং পেইন্টার
স্টেশনে এক ইয়াং পেইন্টারের লগে আমার দেখা হইলো
পোর্ট্রেট আঁকায় অর মুন্সিয়ানা চোখে পড়ছে
অর তুলিতে স্টিল লাইফও ফুটছে ভালো
আর সুক্ষ্ম রেখার মনুমেন্টালিটি
আর আলোছায়ার ত্রস্ত কার্নিভাল
কিন্তু লজিক্যালি অর কম্ফোর্টের জায়গাটা হইলো ল্যান্ডস্কেপ
এমন কি ওর মিনিয়েচার ফর্মের ল্যান্ডস্কেপগুলাও
অর মহাজাগতিক আকাঙ্ক্ষারে এ্যাপ্রোচ করতেছে
মে বি এইটারে অর জন্য টেম্পেরামেন্টাল বলা যাইতে পারে
যা হোক
এখন ট্রেন আসবে ট্রেন যে কোন দিক দিয়াই আসতে পারে
ইয়াং পেইন্টাররে কনফিউজড মনে হইলো
কোন্ ট্রেনে অর ওঠা উচিৎ
কোন্ ট্রেন অরে পৌছায়ে দেবে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে
ঠান্ডায় জমে যাওয়া কফি
দূর, দূর থেকে দেখছি আমার ধোঁয়া ওঠা কফি আর তোমার মুখ।
খামখেয়ালিী সূর্যের কাছে ঋণী, আর তুঁতফলের ঝোঁপ।
লেনদেনের সমস্যা নেই যাদের তারা পাহাড় থেকে
সন্ধ্যার আগেই ফেরে-- তিরষ্কৃত হবার পর
আমরা রোদে বসি। যদিও চারদিকে ঘুরঘুর করছে মিলিটারি,
রাত হলুদ খড়কুটো নিয়ে আমাদের পাখিদের কাছে
বিক্রি হতে আসে।
ভিক্ষুক মেয়েটি
ভিক্ষুক মেয়েটি আমাকে দেখে না,
আমি জানালায় বসে থাকি, বাতাবির শুভ্র অর্ধসত্যে আন্দোলিত।
অমলিন মুখচ্ছবি আর সাবলীল দেহভঙ্গিমা,
পা চালিয়ে ও বড় রাস্তায় ওঠে।
বড় রাস্তা তখন জলে টৈটুম্বুর, সাদা সরপুঁটিদের ঘ্রাণ।
ও জিরোয় না।
ও কি কোনদিন জিরোবে না?
ভিক্ষুক মেয়েটি কাকে ভিক্ষা দিতে যায়?
কার কাছে ভিক্ষা
ও
নিতে যায়?
পাগলামি
আপনি মন থেকে পাগলামি করুন
এটা ভাল
মানে গাণিতিক প্রক্রিয়ায়
প্রস্তুতি নিয়ে
যেটা করা হয় সেটা তো আর পাগলামি না
স্তরের পর স্তর পাথর সিমেন্ট বালি
সরে যায়
প্যালিওলিথিক গোধূলি
সরে যায়
তারপর সমুদ্র
খনিজ
তারপর অগ্নুৎপাত
এটাকে আবার একাডেমিশিয়ানরা
পাগলামির চূড়ান্ত
মানে অপরাধ হিসেবে
গণ্য করেন
রাত দুটো
তোমার ঘুমও তোমাকে জাগিয়ে রাখে নাছোড় শিশুর মতো,
মুখমন্ডলে বিষাক্ত গাছের শাখাপ্রশাখা।
একটা ঝিনুক একটা ছুরি আর পাহাড়ী ঢলের টেবিল --
এরা তাকিয়ে থাকে তোমার ফলের দিকে।
এখন রাত দুটো।
আর দশ মিনিটের ভিতর ট্রেনটা পেরিয়ে যাবে
আমার বাড়ি,
কিছু বাতাস রেখে যাবে যারা দর্জিবাড়ির চৌকাঠ মাড়ায়নি কোনদিন।
এরা আমার মাংসহীন ঘরটাকে কুচি কুচি করে কেটে
ধারালো দাঁতে চিবোতে থাকে,
চিবোতে থাকে, যতক্ষণ না ডানাওলা গাছগুলো
বিষাক্ত ট্রেনের স্মৃতি থেকে নিজেদেরকে আড়ালে নিতে পারে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
শিশির আজম
Shishir Azam
জন্ম : ২৭ অক্টোবর, ১৯৭৮

0 Comments