রত্না মাহমুদা'র গদ্য "বেদনার নন্দন ও অস্তিত্বের অনুরণন : প্রসঙ্গ ‘অনুমেয় আঘাতের ক্ষত’-পাঠ"

 

Ratna Mahmuda's prose "The Beauty of Pain and the Resonance of Existence: Context 'The Wound of an Imaginary Injury' - Lesson"

সমকালীন বাংলা কবিতায় ব্যক্তিমানসের ক্ষত-নিঃসঙ্গতা-ভাঙন ও অস্তিত্বসংকট ক্রমশ প্রসঙ্গিক অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। মানবজীবনের অভিজ্ঞতাগুলো কেবল ব্যক্তিগত বেদনার বয়ান নয়; সময়-সমাজ ও মানুষের অভ্যন্তরীণ বিপর্যয়েরও প্রতিফলন। রাহেল রাজিবের (জন্ম.১৯৮৪) অনুমেয় আঘাতের ক্ষত- কাব্যগ্রন্থটি সেদিক থেকে এক গভীর অনুভবের জগৎ নির্মাণ করে, বেদনা নিছক আর্তনাদ হয়ে ওঠে না; তা নন্দনের এক অন্তর্লোক সৃষ্টি করে। তাঁর কবিতায় জীবনের ক্ষয়- সম্পর্কের ভঙ্গুরতা-স্মৃতির দহন ও অস্তিত্বের অনিশ্চয়তার কাব্যভাষায় প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পাঠককে একই সঙ্গে বিষণœ ও ভাবিত করে তোলে। এ গ্রন্থের কবিতাগুলোতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বৃহত্তর মানবিক বোধের সঙ্গে মিশে গেছে। কবির আত্মগত যন্ত্রণা একসময় সমষ্টিগত অনুভূতির প্রতীকে পরিণত হয়। কবিভাষায় শব্দের মিতব্যয়িতা, চিত্রকল্পের ব্যঞ্জনা এবং অন্তর্মুখী উচ্চারণ কবিতাগুলোকে দিয়েছে স্বতন্ত্র আবহ। অনুমেয় আঘাতের ক্ষত কেবল বেদনার কাব্য নাকি এটি মানুষের অন্তর্জগৎ-অস্তিত্বসংকট এবং সময়ের অস্থির বাস্তবতার এক নান্দনিক দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কবিসত্তা।

তিনি বইটি উৎসর্গ করেছেন আহমেদ রেজাকে। এটি ২০১৯ সালে রুপকল্প প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। রাহেল রাজিবের কবিতার জগৎ, কবিতার অনুপ্রবেশ জুঁইদি ও মাতাল প্রেমিক কাব্যগ্রন্থ দিয়ে! কবির আগমন, কবিতার নির্যাস, কবিতাকথন, কবিতা ভাসান, কবিতার উত্থান, কবিতা উদযাপনের। কবির শব্দ-শব্দ খেলা, বাক্যগঠন, বাক্যের সঙ্গে বাক্যের সংযোগ সবই কবির মনোজগতের অনুরণনের অনুচ্চারিত কাহিনি, চরণে চরণে এঁকে দেয় এক নতুন কবিভুবন! 

অনুমেয় আঘাতের ক্ষত-কাব্যগ্রন্থটি অণুকবিতার আদলে রচিত। অণুকবিতা বলতে স্বল্প পরিসরের এমন কবিতাকে বোঝায়, যেখানে খুব অল্প শব্দে গভীর অনুভূতি, চিন্তা, দর্শন বা ব্যঞ্জনা প্রকাশ করা হয়। সাধারণত অণুকবিতা আকারে ছোট হলেও এর ভাবগভীরতা অনেক বিস্তৃত হতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় শব্দ থাকে না; সংক্ষিপ্ততা, ইঙ্গিতময়তা ও ব্যঞ্জনাধর্মিতা এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

রাহেল রাজিবের আত্মসংগ্রামের এক নিগূঢ় দর্শনের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যেখানে প্রকৃত রণক্ষেত্র কোনো পার্থিব ময়দান নয়, হৃদয়ালোকের প্রতিচ্ছবি। তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে অন্য কাউকে দাঁড় না করিয়ে নিজের গহিনের ক্ষতগুলোকে চেনার আহ্বান জানিয়েছেন; যা মূলত মানুষের পলায়নপর প্রবৃত্তির মূলে এক প্রবল কুঠারাঘাত। অনুমেয় আঘাতের ক্ষত বিষয়ে কবি বলেছেন,

যুদ্ধতা নিজের সাথে! আয়নার সামনে বারবার নিজেকে তৈরি করি। যুদ্ধটা খুব সহজ ও স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষ খুঁজে নেওয়ার দায়বার বহন করে মানুষ কতদূর যেতে পারে? শুধু মনের গহিনে বাড়তে থাকা ক্ষতকে উপেক্ষা করতে ক্লান্ত চারপাশ। ফেলে আসা ও সামনে অপেক্ষমাণ পথগুলো সর্পিল। (রাহেল রাজিব, ২০১৯: ৮)

কবি রাহেল রাজিবের এ উচ্চারণ জীবনবোধের এক গভীর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর কবিতায় মানুষের ভেতরের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করার নামান্তর। নিজের দুর্বলতা কিংবা ক্ষতকে স্বীকার করার মত দুঃসাহস সকলের থাকে না। এটি মূলত শুদ্ধতার পথে এক অপরিহার্য অভিযাত্রা। চারপাশের শত প্রতিকূলতা আর মেরুদ-হীনতার ভিড়ে নিজেকে ঋজু রাখার প্রচেষ্টা কবির ভাষায় বর্ণিত হয়েছে, যে ভাষা এক উন্নত ও মহত্তর জীবনের প্রতি মানুষের চিরন্তন আস্থারই জয়গান গায়। জীবন মূলত একটি টালিখাতার মতো প্রতিটি অভিজ্ঞতা নতুন খরচের হিসাবে যুক্ত হতে থাকে এবং আমাদের চলমান অস্তিত্বের নিরবচ্ছিন্নতাকে নির্দেশ করে। জগৎ-সংসার যত জটিল সমীকরণেই আবদ্ধ হোক না কেন, মানুষের সহজাত সীমাবদ্ধতার কারণে জীবনের ঐকিক নিয়মে কিংবা সাধারণ হিসেবে ভুল হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ও অনিবার্য।

হিসাব শেষ পর্যন্ত টালিখাতায়, জের যতই থাক নতুন খরচের হিসাব চলমান। যত জটিল হেক না কেন, ঐকিক নিয়মের ভুল হবেই ( রাহেল রাজিব, ২০১৯:২০)

হিসাবের এ জাতীয় ভ্রান্তি বা জীবনের টালিখাতায় জের থেকে যাওয়া কোনো ব্যর্থতা নয়, এটি মানবিক সত্তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি মানুষকে পূর্ণতার দিকে ধাবিত করে। ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে জেনেই নতুন উদ্যমে জীবনের হিসাব চালিয়ে যাওয়া মূলত মানুষের অদম্য প্রাণশক্তি এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে সংশোধনের এক মহত্তম চেষ্টা।

রাহেল রাজিবের কবিতার চরণে ‘ঋ’ বর্ণটি শাশ্বত সত্যের সমান্তরালে হৃদয়ের নিভৃত কোণে লুকিয়ে থাকা প্রেমের এক গভীর রূপক হিসেবে ধরা দিয়েছে। এখানে ‘ঋ’ সেই অমোঘ সত্য ও প্রেম-জাগতিক কোলাহলে- বিস্মৃতপ্রায় মনে হলেও আদতে তা মানুষের অস্তিত্বের গভীরে অবিনশ্বর হয়ে থাকে। ধ্বনি-বর্ণ-শব্দের মায়াবী সম্মোহনে নিহিত প্রেম বারবার নব আঙ্গিকে ফিরে আসে; প্রমাণ করে জীবনের মৌলিক আবেগগুলো কখনোই চিরতরে হারিয়ে যায় না, কেবল ক্ষণিকের জন্য আড়ালে চলে যায়।

ঋ-সত্য। লুপ্তপ্রায় বর্ণ, বর্ণ লুকোতে লুকোতে ফের ফিরে পাই, ধ্বনি -বর্ণ- শব্দ সম্মোহনে। ( রাহেল রাজিব, ২০১৯:২১)

লুপ্তপ্রায় বর্ণকে প্রেমের সাথে একীভূত করা মূলত আত্মার অবিনাশী সত্যকে স্বীকার করে নেওয়ারই নামান্তর। এই সম্মোহন কোনো অলীক মোহ নয়, এটি মূলত হৃদয়ের গহিনে সুপ্ত থাকা পবিত্র অনুভূতিগুলোকে পুনরায় আবিষ্কার করার এক শৈল্পিক ও জীবনমুখী প্রচেষ্টা।

কবি রাহেল রাজিবের এ কবিতায় জীবনের যান্ত্রিকতা এবং বিমূর্ত আবেগের এক করুণ রসায়ন ফুটে উঠেছে। এখানে সেলফের কোণে জমে থাকা ধুলো মূলত আমাদের অবহেলিত প্রেম ও সৃজনশীলতারই প্রতিচ্ছবি। তা একসময় দৈনন্দিনতার চাপে ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। শৈশব আর সবুজের স্নিগ্ধতা হারিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে লেখক যান্ত্রিক জীবনের সেই রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং মানুষের প্রাণশক্তি বা জীবনের নাব্যতা হারিয়ে গিয়ে এক স্থবিরতার জন্ম হয়।

সেলফের কোনায় জমে থাকে ধুলো-প্রেম-কাব্য। ভুলে গেছি সবুজ, মনে থাকে না শৈশব, মরে যায় জীবনের নাব্য (রাহেল রাজিব, ২০১৯: ২৪)

স্মৃতি কিংবা আবেগের ওপর ধুলো জমে যাওয়া মানেই তার চিরস্থায়ী মৃত্যু নয়। এটি প্রতিকূল সময়ে মানুষের আত্মরক্ষার এক নীরব কৌশল মাত্র। হারানো শৈশবকে কাব্যিক হাহাকারে প্রকাশ করার এ প্রয়াস প্রমাণ করে, মানুষের ভেতরে এখনো সেই আদিম শুভবোধ ও সবুজের তৃষ্ণা জীবন্ত রয়েছে। কবি রাহেল রাজিব মানুষের আত্মকেন্দ্রিক মনস্তত্ত্বকে সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেছেন। আয়নায় নিজেকেই বারবার আবিষ্কার-করার চিত্রকল্প-মানুষের আত্মমুগ্ধতা-আত্মপরিচয় অনুসন্ধান এবং নিজের অস্তিত্বকে কেন্দ্র করে পৃথিবীকে বিচার করার প্রবণতার প্রতীক। মানুষ আয়নায় শুধু নিজেকে দেখতে চায় না সেইসাথে নিজের চিন্তা, মত ও সত্তাকেই সত্য ও প্রামাণ্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

মানুষ শুধু নিজেকেই দেখতে চায়,আয়নায় নিজেকেই বারবার আবিষ্কার করতে চায়। মানুষ নিজেকেই প্রামাণ্য মনে করে- নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে কামনা করে।( রাহেল রাজিব ২০১৯ : ৬০)

মানুষ স্বভাবগতভাবেই আত্মঅন্বেষী প্রাণী। কবির বিচারেও তাই। তাঁর জীবনদর্শনও সেরকম হতে পারে। আয়নায় নিজেকে খোঁজার অর্থ কেবল আত্মমুগ্ধতা নয়, পাশাপাশি নিজের পরিচয়-সক্ষমতা ও অস্তিত্বকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা। মানুষ যদি নিজেকে প্রামাণ্য মনে না করত, তবে আত্মবিশ্বাস-সৃজনশীলতা কিংবা উন্নতির আকাঙ্ক্ষা ও জন্ম নিত না। নিজেকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে কামনা করার মধ্যে কোনো অহংকার নেই; শুধুমাত্র আত্মোন্নয়নের প্রবৃত্তি কাজ করে। মানুষ নিজের সীমা অতিক্রম করতে চায় বলেই সভ্যতা-শিল্প-শিক্ষা- বিজ্ঞান ও জ্ঞানের বিকাশ সম্ভব হয়েছে। তাই কবির উক্তিটি মানবমনের এক স্বাভাবিক ও চিরন্তন বৈশিষ্ট্যের বাস্তব প্রকাশ।

পশু ও মানুষের যৌন আচরণের মধ্যে নৈতিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। পশুর যৌনতা সম্পূর্ণ জৈবিক ও প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিনির্ভর, এতে নৈতিকতা, লজ্জা বা সামাজিক বিকৃতি নেই। তাই একে পাশবিক বলা যৌক্তিক নয়।

অন্যদিকে মানুষের যৌনতা শুধু জৈবিক চাহিদা নয়; এতে ক্ষমতা, লালসা, নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক বিকৃতি যুক্ত হতে পারে। মানুষ যখন নৈতিক সীমা অতিক্রম করে, তখন তার আচরণই প্রকৃত বিকৃত বা পাশবিকতার চেয়ে অমানবিক রূপ নেয়।

পশুদের যৌনতা কখনোই পাশবিক নয়,মানুষের যৌনতা পাশবিকভাবে অতিক্রম করে যায়। (রাহেল রাজিব, ২০১৯:৬১)

মানবসমাজের আচরণ সংস্কৃতি-মনস্তত্ত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই সেখানে বিকৃতি ও সহিংসতার সম্ভাবনা থাকে। পশুর আচরণ জৈবিক সীমায় আবদ্ধ হওয়ায় সেখানে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রশ্ন আসে না। প্রতীকীভাবে চিন্তা করলে বলা যায়, প্রকৃত পাশবিকতা প্রাণীদের মধ্যে নয়, মানুষের অমানবিক আচরণের মধ্যেই প্রকাশ পায়।

রাহেল রাজিবের এই কাব্যিক উচ্চারণে ধূপ ও চন্দনের সুবাস কেবল ঘ্রাণজ অভিজ্ঞতা নয়, বরং তা আধ্যাত্মিক ব্যাকুলতা ও পরম সত্তার প্রতি ঐকান্তিক আত্মসমর্পণের প্রতীক। আগরবাতি বা ধূপকাঠি—নামের এ পার্থিব ভিন্নতা আসলে জাগতিক তুচ্ছ ভেদাভেদকে নির্দেশ করে। যার অন্তরালে মূল সত্য বা সুগন্ধ অবিনশ্বর থাকে। ধূপের দহনে নিঃসৃত সুবাস কবির হৃদয়ের আর্তি ও ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করে। আর চন্দনের মোহময় শীতলতা তাঁর আত্মার প্রশান্তির প্রধান অনুষঙ্গ। সুগন্ধের মায়াবী ঘোরে আচ্ছন্ন থাকার বাসনা মূলত কোলাহলমুখর পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক অপার্থিব ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নিজেকে বিলীন করে দেওয়ারই শৈল্পিক প্রয়াস।

কেউ বলে আগরবাতি কেউ বলে ধূপকাঠি! ধূপের গন্ধটার প্রতি আবেগ কাজ আছে, চন্দনের প্রতি আছে মোহ। (রাহেল রাজিব, ২০১৯: ৭৫)

ধূপের ধোঁয়ার ন্যায় নিজ অস্তিত্বকে নিঃশেষ করে এবং চন্দনের শুভ্র পবিত্রতায় মনকে সিক্ত করে কবি এক আধ্যাত্মিক মিলনের সেতুবন্ধন রচনা করেছেন। এটি স্রষ্টা বা পরম সুন্দরের প্রতি সৃজনশীল মানসসত্তার এক চিরন্তন ও অবিস্মরণীয় আত্মসমর্পণ।


রাহেল রাজিব-এর অনুমেয় আঘাতের ক্ষত-কাব্যগ্রন্থ সমকালীন বাংলা কবিতায় ব্যক্তি-অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানবিক বোধের এক সংবেদনশীল শিল্পরূপ। এই কাব্যগ্রন্থে কবি জীবনের বহুমাত্রিক সংকট- মানসিক টানাপোড়েন-সম্পর্কের ভাঙন-সময়ের নির্মমতা এবং অস্তিত্বগত প্রশ্নকে কাব্যিক ভাষায় রূপ দিয়েছেন। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনা বৃহত্তর সামাজিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক সার্বজনীন আবেদন সৃষ্টি করেছে।

গ্রন্থটির অণুকবিতাগুলোতে অনুভূতির গভীরতা, চিত্রকল্পের বৈচিত্র্য এবং ভাষার সংযমী ব্যবহার লক্ষণীয়। কবি সমকালীন মানুষের ক্ষত-হতাশা- স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন। যা পাঠককে আত্মঅন্বেষণ ও বাস্তবতা-সচেতনতার দিকে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে কাব্যগ্রন্থটি মানবজীবনের অনিবার্য আঘাত ও তার অভিঘাতকে নান্দনিক ব্যঞ্জনায় ধারণ করেছে।

Post a Comment

0 Comments