রাস্তার পাশে মস্তবড় জটলা দেখে, কি ঘটেছে দেখার জন্য এগিয়ে যায় আকরাম সাহেব।
আকরাম সাহেব শিক্ষক, নম্র, ভদ্র আদর্শ একজন শিক্ষক বলা যায়। হাজী শামসুল হক স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষকতা করে সে। গণিতের শিক্ষক সে।প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী তার কাছে নিজের সন্তানের মতো আপন।
ভিড় ঠেলে সামনে এগোতেই দেখতে পায় রাস্তার পাশে বসে যে পাগলিটা ভিক্ষা করতো, শান্ত বালকের মতো ঘুমিয়ে আছে, উত্তর দক্ষিণ করে রাখা হয়েছে তাকে।
গত দিনগুলোর মতো ডাকাডাকি নেই,চিল্লাচিল্লি নেই, নিথর দেহ পড়ে আছে মাটির উপর। কখন যে মারা গিয়েছে কেউ বলতে পারেনা। উপর ওয়ালার ডাকে তার কাছে চলে গেছে। দু-এক জন বলা বলি করছে মারা গেছে,ভালোই হয়েছে। এত কষ্টের চাইতে আল্লাহ তাকে তুলে নিয়েছে ভালোই হয়েছে। কেউ কেউ বলছে ইদানিং পাগলিটা বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ করতো, সামনেই স্কুল, ছোট ছোট বাচ্চারা হাসাহাসি করতো। বিশ্রি ভাষা দু-একটা শিখে ফেলতো, মারা গিয়ে ভালোই হয়েছে। স্কুলের পরিবেশটাও নষ্ট করতো সে। কেউ কেউ বললো পাগলিটা কারো গায়ে হাত তুলতো না, এই বিষয় টা ভালো ছিল।
কেন যে পাগলিটা স্কুলের সামনেই বসে থাকতো ভাবতে থাকে আকরাম সাহেব। আগে স্কুল থেকে অনেক দূরে বসে থাকতো পাগলিটা, ওখানেই বসে ভিক্ষা করতো। বেশ কিছুদিন থেকে স্কুলের সামনে বসে, কেউ সরিয়ে দিলেও আবার স্কুলের এখানেই এসে বসে থাকে। বোধ হয় পাগলিটারও পড়ালেখা ভালো লাগতো। যখন সে সুস্থ ছিল, ভালো শিক্ষার্থী ছিল।
হঠাৎ আকরাম সাহবের মনে পড়ে গেল প্রথম বর্ষের কয়েকজন ছাত্রীর কথা। স্কুলের রাস্তার পাশের কিছু বখাটে ছেলের কথা বলছিলো তারা। বখাটেরা নাকি ওদের বিরক্ত করে, বিশ্রি ভাষা ব্যবহার করে টিজ করে। একদিন নাকি কারে যেন ভয় দেখিয়েছে।
আকরাম সাহেব ভাবে এই পাগলিটার সাথে ওই বখাটেদেরও কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য শুধু পাগলিটা কাউকে ভয় দেখাইতোনা কিন্তু বখাটেরা দেখায়, মারার হুমকি দেয়। নিজের স্বার্থে এর চেয়েও খারাপ কিছু করে ফেলে এরা।
বখাটেদের সামাজিক ভ্যালু ওই পাগলিটার মতোই। তারাও মস্তিষ্ক বিকৃত মানুষ। যত তাড়াতাড়ি নিশ্চুপ হয়ে যায় ততই সমাজের জন্য মঙ্গল।

0 Comments