নাটক ।। আস্তাকুঁড়ে মানুষ ।। রচনা ও চিত্রনাট্য ।। তারিকুল আমিন

Drama. Astakund people. Writing and screenplay. Tariqul Amin




চরিত্র:

নান্টু ১০

নান্টুর মা (অধরা) ৩২

নান্টুর বাবা (নিলয়) ৪০

নিলয়ের সন্তান (রনি)

রানা (প্রতিবন্ধী) ১২

রানার মা ৩৫

ভদ্রলোক ৪০

হোটেল বয় ১০-১২

.................



দৃশ্য-১

চরিত্র: নান্টু।

সময় : সকাল।

নান্টু আস্তাকুঁড়ে বস্তা বিছিয়ে পায়ের উপর পা তুলে মনের আনন্দে আকাশের দিকে তাকিয়ে গান গায়। পাশে কুকুর খাবার খাচ্ছে। কাক কা কা করে ডাকছে।

নান্টু: ওরে সালেকা, ওরে মালেকা, ওরে ফুলবানু, পারলি না বাচাঁতে...! এরপর ধরবে আরাকটা গান- রূপবানে নাচে 

কোমর দুলাইয়া...। (পাশ দিয়ে গার্মেন্সের মেয়েরা হেটে যাবে। যেতে যেতে ওর এই পাগলামি দেখে ওরা হাসবে।

নান্টু আরো জোড়ে জোড়ে গান ধরলো। এমন সময় এক ভদ্র মহিলা/ লোক ময়লা ফেলে যাবে। ময়লার ছিটা এসে 

পরবে নান্টুর শরীরে।)

নান্টু: ঐ মিয়া ঐ। চোহে দেহেন না।

ভদ্রলোক : ঐ এক চড় মেরে দাঁত সব ফেলে দিবো। তুই তো ময়লাতেই শুয়ে আছিস। ফকিন্নিরা যে কোথা থেকে আসে। ঝাড়স পোলাপান কোথা থেকে যে আসে। (নান্টুর রাজ্যের হাসি এক কথাতেই কেঁড়ে নিল। নান্টু ছোট থেকে এই কথা শুনতে শুনতে বড় হয়েছে। নান্টুর চোখ দিয়ে জল পড়ে।)

কাট


দৃশ্য-২

চরিত্র: নান্টু।

সময় : দুপুর।

(ভাঙারির দোকানে ভাঙারি বিক্রি করে। মালিক ওর হাতে টাকা দেয়। সেই টাকা নিয়ে দে ছুট। মনের আনন্দে গাইতে গাইতে চলে যাবে।)

কাট

দৃশ্য-৩

চরিত্র: নান্টু।

সময় : দুপুর।

নান্টু ভাঙারি বিক্রি করার সেই টাকা দিয়ে হোটেলে খাবার খেতে যায়।

হোটেল বয় : কীরে, হুনলাম করিম চাচা নাকি মারা গেছে?

নান্টু : হরে, চাচা আমারে রাইখা মারা গেলো। এই স্বার্থপর দুনিয়াতে একা রাইখা চইল্লা গেলো।

হোটেল বয় : এখন তুই চলস কীভাবে?

নান্টু : আল্লাহ যেভাবে চালায়। সেইভাবেই চলি। আর কথা বাড়াইস না। তারাতাড়ি খাবার দে। (হোটেল বয় খাবার দিতে দিতে।)

হোটেল বয় : কীরে নান্টু। চাচায় তোরে কিছু কইয়া গেছে। এই যেমন ধর তোর মা বাবা কে?

নান্টু : আরে হেয় কইবো কেমনে। হেয় তো আমায় পাইছে ঐ ডাস্টবিনের ভিতরে আমি নাকি কানতাছিলাম। বাকীটা পরে হুনিস। এহন খাইতে দে।

মালিক : ঐ ছেমড়া ঐ! ওর সাথে এতো কথা কইলে বাকী মাইসেরে ভাত খাইতে দিবি কখন। তারাতাড়ি কাজ কর। (এরপর নান্টু খেতে থাকে আর হোটেল বয় কাজ করতে থাকে।)

কাট

দৃশ্য-৪

চরিত্র: অধরা, রানা (প্রতিবন্ধি), রানার মা।

সময় : বিকাল।

(রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করে রানা। অতি যত্ন করে খাইয়ে দিচ্ছে রানার মা। মুখ মুছে দিচ্ছে ওর আঁচল দিয়ে। এমন দৃশ্য দেখে অধরার ছেলের কথা মনে পড়ে। এমন সময় রানা হাত দিয়ে ডাকে অধরাকে। অধরা চমকিয়ে উঠে। পরে ওর হাতে টাকা দিয়ে চলে যায়।)

কাট


দৃশ্য-৫

চরিত্র: নান্টু।

সময় : পরের দিন সকালে।

(নান্টু আস্তাকুঁড় থেকে বস্ত নিয়ে ভাঙারি টোকাতে যায়। কুকুরের সাথে খেলা করতে দেখা যায়। নদীর পানিতে মজা করতে দেখা যায়।)

কাট


দৃশ্য-৬

চরিত্র: অধরা।

সময়: রাতে

অধরা বারবার সেই রানার প্রতি রানার মায়ের ভালোবাসা কল্পনা করে। অধরা ভুলতে পারেনা সেই অবৈধ সম্পর্কের কথা। অনেক অস্থিরতায় ভোগে। তার সন্তানের কাছে চলে যেতে চায়। কিছুদিন গিয়েছিল কিন্তু সন্তানকে পায়নি। ঐদিকে নান্টু আকাশের বুকে শুয়ে তারাগুনে। আর বলে) 

নান্টু : হে খোদা, কে আমার মা, কে আমার বাবা। তোমার কাছে একটি ফরিয়াদ করতে চাই। যদি তারা বেঁচে থাকে তাহলে একটিবার তাদের দেখতে চাই। (এই বলে চোখের জল ফেলে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে যাবে নান্টু। অন্যদিকে নিলয় তার সন্তানকে নিয়ে গল্প করবে।)

কাট


দৃশ্য-৭

চরিত্র: নান্টু, রনি, নিলয়ও অধরা।

নিলয় : বাবা কি খাবে?

রনি : আইসক্রিম কিনে দাও আমায়।

নিলয় : বাবা ডাক্তার তো...!

রনি : না.. না.. না আমি কিছু শুনতে চাই না। আমি আইসক্রিম খাবো মানে খাবো।

নিলয় আইসক্রিম কিনতে যায়। এমন সময় নান্টু কাগজ কুঁড়াতে কুঁড়াতে রনির কাছে আসে। রনি ওর হাতের বোতল ফেলে দেয়। সেটা কুড়িয়ে নান্টু নেয়। রনি গিয়ে ওর হাত থেকে বোতলটা কেঁড়ে নিয়ে নান্টুকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। গিয়ে পড়ে অধরার পায়ের কাছে।

অধরা : ছি বাবা। এটা কী ব্যবহার তোমার। মানুষের সাতে এমন করে না। (অধরা নান্টুকে উঠায়। উঠিয়ে মুছিয়ে দেয়। রনি নান্টুকে মুখ ভেংচি দেয়।)

অধরা : ইস্ তোমার তো অনেকটা কেটে গেছে বাবা। চল তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।

নান্টু : আমার তো....।

অধরা : আরে না করো না। (আইসক্রিম নিয়ে আসতে যাবে এমন সময় নিলয় অধরাকে দেখে চিনতে পারবে। আসতে আসতে অধরা অনেকটা দূরে চলে যাবে। পিছনে পিছনে নিলয় ও নিলয়ের ছেলে ও যাবে।)

কাট


দৃশ্য-৮

চরিত্র: নান্টু, রনি, নিলয়ও অধরা।

নান্টু সেই আস্তাকুড়ের দিকে অধরাকে নিয়ে যাবে। যত যাবে ততই চমকে যাবে। এক পর্যায় থেমে যাবে অধরা।

নান্টু : কই মেডাম। আইয়েন। ঐ তো সামনে আমার বাড়ি।

অধরা : হ্যা...! তুমি চল। (অধরার চোখের সামনে সেই দৃশ্য ফুটে উঠে। অন্ধকারে বাচ্চা রেখে চলে আসার দৃশ্য। পিছনে নিলয় অধরাদের পিছু নেয়। অধরাকে হাত দিয়ে নাড়া দিবে। অধরা ভয় পেয়ে উঠবে ওর কল্পনা দেখা শেষ হবে।)

নান্টু : মেডাম এইডাই আমার ঘর। জানি না কে আমার মা, কে আমার বাবা। তবে এই মাটি দেখতাছেন এটা আমার বিছানা। আর ঐ দূরের নীল আকাশটা দেহেন ঐটা আমার ঘরের চালা। এই যে কুকুরটা দেখতাছেন এটা আমার বন্ধু। মাঝে মাঝে ও আমার বালিশ হয়। আমার হাতের বস্তাটা দেহেন এটা আমার গায় দেয়ার খাতা। শীত কন, বৃষ্টি কন সব থেকে আমায় রক্ষা করে। (অধরা এই সব কথা শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। সে এই জায়গাটা ভালো করে চিনে। কারণ এই জায়গায় তার সন্তানকে ফেলে গেছে। তখন অধরা তার ছেলেকে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।)

অধরা : আমার ছেলে...! তুই আমাকে ক্ষমা করে দে বাবা। (জড়িয়ে অঝরে কান্না করবে। নান্টু হাত সরিয়ে দিবে। জড়ানো হাত অনেক্ষন অনুভব করে। কিন্তু নান্টু ঘৃণায় মার হাত সরিয়ে দেয়। পিছন থেকে ফিরে মাকে বলে।)

নান্টু : ছি....! ছি...! (নান্টু আবার তার সেই গন্তেব্য চলে যায়।)

।সমাপ্ত।


Post a Comment

0 Comments