আদতে বিষয়টি দ্বন্দ্বের। ভাবনা? নাকি কীভাবে তৈরি করি। আমার কাছে মনে হয় কবিতা তৈরিতে আলাদা ভাবনা প্রাসঙ্গিক নয়। যা ভাবা হয় তার বিন্যাসসমূহ সরাসরি প্রয়োগে আসে। এর পরে কেউ কেউ চিন্তাকে শ্রেণি করতে মনোহর টানেন, মন্থন করেন কিংবা দুধের সরের মতো প্রলেপ আনতে সমস্ত উপাদান নিয়ে গৃহিণীর আসনে আসেন।
যেহেতু প্রসঙ্গ ভাবনার, সে নিরিখে তৈরির দিক নিয়ে আলাপ একেবারেই গৌণ। অথবা আমাকে প্রশ্ন করা যেতে পারে কিভাবে এই গণিতে গড়িয়ে পড়লেন। ফের জানতে চাওয়া যেতে পারে কবিতা আসলে কি? আমাকে কোন চর্চায় টেনেছে?
জীবন তো বহুরৈখিক, বহুবর্ণিল-এমন হাটে মানুষ পৃথকে পৃথকে। ঘানি টানে সহজে, কঠিনে। বহুমুখিতার পথ চলতে গিয়ে সুখ পায়, স্বপ্নে বিভোর হয়। আবার নীল প্রজাপতির মত ডানা ভাঙে দু:খের বৈরী হাওয়ায়। এই যে উত্থান-পতন জীবনের অমোঘ রীতি, তার রঙ দেখা-না দেখার সমীকরণ কম-বেশি রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে একজন কবির কাছে ধরা দেয়। দ্বৈরথ হয় দুই সত্ত্বায়। তখন ইচ্ছে হয় নিজেকে জানান দেয়ার। এমন বহিঃপ্রকাশ সব মানুষের থাকে। শুধু পদ্ধতিতে পৃথক।
এইতো। ভাবনার প্রকাশটা কবিতায় তদ্রুপ। কবিতা মূলত অমীমাঙসিত শিল্পচেতনা। কখনও মনে হয় টসটসে ডালিমের লাল দানা, ডিম থেকে ফোটা বাচ্চা। কখনও মায়ের যুগল চোখে ছানিপড়া কিঙবা বাবার পোড়া হাত। আবার বলে থাকি এটি নরকের নাকফুল, ধৈর্যের উপসংহার। যখন ভাষা লোপ পায় তখন বলে থাকি, অই যে দ্যাখো- একটা শূন্য পড়ে আছে, সম্ভবত ওটাই কবিতা!

0 Comments