জড়িবুটি
যে তোমার ভাষা জানে না
সে ভেঙ্গে যায় একটু একটু করে
নীরবতার পায়ের কাছে বসে থাকি
উড়ন্ত শব্দের মৃত্যু কামনা করে
আমিতো শূন্য হয়ে গেছি কবেই
প্রেম আর অপ্রেমের সুতো ছিঁড়ে
যখন তুমি হাতে দিয়ছিলে
“মৌনতার জড়িবুটি”
যেভাবে রক্তিম ধুলো ঢাকা পথ ধরে
নিজেদের মোকামে ফিরে যায়
বৌদ্ধ ভিক্ষুর দল
তেমনি করে শব্দগুলো নিঃশব্দে
ছবি হয়ে যায় একদিন।
পথ
যেনো আমারই শরীরে বিছানো
ইটের গাঁথুনি থেকে এইমাত্র উড়াল দিল
একটা শালিক,
তার পায়ের ছাপে পিঠের ভাঁজ খুলে
যেদিকে সেজদা দিয়ে দাঁড়াই
আমাকে পাখি হতে বলে
পড়শিবেলার তাড়া খাওয়া মাছ,
সাপুড়ে দুলালকানাই।
আমি বেফিকর দিলের কাছে হাত পাতি
একটা জলঢোড়ার সমস্ত মগ্নতায়
নত হয়ে বাতাসে ডুব দিই–
রূহ এর বন্ধক রেখে আসমানে
সিধ কাঁটা মাটির-শরীরে বাজে ‘আল-বাছীর’
কে জানে?
জীবন আর মৃত্যুর কাসিদা লিখে যে মিহির
তার সামান্য ইশারায় পুলসেরাত হতে পারে
একটা দাগকাটা শামুকের নামলিপি।
ফুলের বুদ্বুদ
রাতের ডানা ঝাপটে সকালে ঝরে পড়ে
কিছু তারা
বাদামী অভিমান থেকে মানুষোগুলো ফিরে যাচ্ছে
এক পায়ে, দুই পায়ে অথবা তিন পায়ে,
দু-একটা কুকুর সাথে নিয়ে।
আমি বিছানার গায়ে ঠান্ডা ঘুম ফেলে রেখে– খুঁজি
নিজেকে সেলাই করার অনুবাদ
কালো পিচের রাস্তায় মেহগনি ফুলের বুদ্বুদে
খসে যাওয়া তারাগুলো ডুবে গেলে
জীবনের নকশা তুলতে আসা ঝাড়ুকন্যারা
কুড়িয়ে নিয়ে যায় রোজ।
ত্রিকোনোমিতি
একটা সকাল চলে যায় প্রতিদিন
আমাকে অতিক্রম করে, হুইসেল দিয়ে—
আমি তখন ঝরাপাতার ভঙ্গিতে
তোমার দিকেই ছিঁড়ে পড়ি যাবতীয় অবসর নিয়ে,
কুড়িয়ে পাওয়া ডানাভাঙ্গা রোদের দিকে
তুমি যখন আঙ্গুলে ইশারা কর,
আমি তখন বিভ্রান্ত—
দিকশুন্য গতির কাছে সহসা ঋণী থাকে যে আয়ু
তাকে পরমায়ু ভেবে ঝুলে পড়ি থোকা থোকা
ডাল থেকে।
আমাকে কুড়িয়ে নাও, তুমি এইবেলা—
ঝরা পাতার ত্রিকোনোমিতি ভেঙ্গে।
আল্পনা
ঝরঝরে মাটির ওপর দিয়ে
ফুল তোলা নকশা কেটে চলে যায়
একদল পরিযায়ী হাওয়া,
এমন করে পৃথিবী বুঁদ হয়ে গেল―
কোনো চিহ্ন রইলো না আর ডোরাকাটা জ্যোৎস্নায়।
শুধু কয়েকটা পাতা মাটিতে ছিঁড়ে পড়ে,
ভেঙে যাওয়া সময়ের টুকরো মুখে নিয়ে
অদৃশ্য হয়ে গেলে মৃত্যুর গায়ে
অসংখ্য আল্পনা ফুটে উঠে।

0 Comments