মৃত্যুর সাথে নাকি আর্টের একটা যোগাযোগ আছে। মৃত্যু ও শিল্পের এই সম্পর্কের সেতু নাতিদীর্ঘ নয় নিশ্চয়ই। বিষয়টি অত সাদামাটাও নয়। মৃত্যু ও স্বাধীনতার বিষয়টিও বোধ হয় মৃত্যু ও শিল্পের যোগাযোগের মতো সুনিবিড় সম্পর্কে গাঁথা। কিন্তু সংস্কৃতির সাথে নৈরাজ্যের ও প্রত্যাখানের নিবিড়কোনো সম্পর্ক আছে কিনা ভাবতে হয় বই কি!
প্রথমত, মৃত্যু ও শিল্প, মৃত্যু ও স্বাধীনতা, এবং সংস্কৃতি ও নৈরাজ্য ইত্যাদির সম্পর্ককে একটা সরল প্রতিপাদ্য হিসাবে ধরে নিতে পারি। প্রাচীন গ্রিক নাটক বলি বা শেক্সপিয়ারের নাটক বলি বা ব্যাধের বধ বলি ইত্যাদি সবকিছুতেই মৃত্যুর সম্পর্ক এদেরকে শিল্পরূপ করে তুলেছে বা অন্য কথায় মৃত্যু নিজেই শিল্প হয়ে হাজির হয়েছে।
মৃত্যু ও শিল্প বিষয়ে ভাবলে আমার অনন্য রায়, সিলভিয়া প্লাাথ, হেমিংওয়ে, জন বেরিম্যান প্রমুখের কথা মনে পড়ে। কে আর অমন উচ্চারণ করতে পারে সিলভিয়া প্লাথ (Sylvia Plath) ছাড়া। যখন তিনি বলেন মৃত্যু হচ্ছে শিল্প।
আর আমারা যদি জীবনানন্দ দাশের দিকে তাকাই তাহলে তো মৃত্যু ও ধূসরতার চিরকালীন বেদনাভারা আনন্দ দেখি। বেদনার সেই আনন্দ মূলত শিল্পসৌন্দর্য্যের আনন্দ। আরা ট্রাম দুর্ঘটনায় জীবনানন্দের মৃত্যু যেন শেষ পর্যন্ত কাহিনির মতো কবিতার চিরনায়কের মৃত্যু। ‘মৃত্যুর আগে’র শেষ স্তবকে কী বলেন তিনি, শুনি:
আমরা মৃত্যুর আগে কী বুঝিতে চাই আর? জান না কি আহা
সব রাঙা কামনিার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে
ধূসর মৃত্যুর মুখ;- একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিল- সোনা ছিল যাহা
নিরুত্তর শান্তি পায়; যেন কোন মানবীর প্রয়োজনে লাগে।
কি বুঝিতে চাই আর; রৌদ্র নিভে গেলে পাখ-পাখালির ডাক
শুনিনি কি, প্রান্তরের কুয়াশায় দেখিনি কি উড়ে গেছে কাক!
আর রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে বলেছেন শ্যামের সমান। বরিস পাস্তারনেকও মৃত্যুর সাথে আর্টের নিবিড় সম্পর্কের কথা বলেছেন। মৃত্যুর সাথে, মৃত্যুচিন্তার সাথে শিল্পের এই সম্পর্ক ও যোগাযোগ চিরকালীন শিল্প ও সৌন্দর্যবোধের যোগাযোগ।
তবে মৃত্যু ও স্বাধীনতা সম্পর্ক ভালো করে বুঝতে হলে ‘সোফি’স চয়েস’(Sophie's Choice) ছবিটির উদাহরণই যথেষ্ট। চাইলে ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ও (Blood Diamond) দেখা যেতে পারে। আপনি যখন স্বাধীনতা চান মৃত্যু তখন অবধারিত, আর মৃত্যু যখন চান তখন আপনি পরিপূর্ণ স্বাধীন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। মৃত্যু ও স্বাধীনতার সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংষ্কৃতির সম্পর্কও খুব পাতলা নয়, সাহিত্যেরও।
ব্যক্তির স্বাধীনতাও বড় বিষয়। কেবল বাকস্বাধীনতা নয়, সকল ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তি ভোগ করতে পারে কোনো বিধি নিষেধ আরোপ ছাড়াই। অরণ্যে রোদন করা যেমন অর্থহীন, নির্জনে ব্যক্তির স্বাধীনতাও অর্থহীন। ব্যক্তি তার স্বাধীনতা রক্ষার্থে যা যা করে তাই স্বাধীনতা, আর্নল্ড যেমনটা বলেছেন, Ôpassion for doing as one likes, for the assertion of personal libertyÕ. কিন্তু রাষ্ট তা মানবে কেন? বরং স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ আরোপই যেন রাষ্ট্রের প্রধান কাজ। বাংলাদেশের দিকে তাকালে সহজেই তা অনুমেয়। কিন্তু স্বাধীনতা অর্থবহ হয় যখন রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ থেকে নিবৃত্ত থাকে। আর্নল্ড বলেন, "A liberal believes in liberty, and liberty signifies the non-intervention of the State.Ó কিন্তু তেমনটি আর হয় না। স্বাধীনতাও সাপেক্ষের ব্যাপার। বরং পশ্চিমা ডিসকোর্সে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হয় আক্রমণ করার মাধ্যমেই। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ সালমান রুশদির (Salman Rushdie) স্যাটানিক ভার্সেস (Satanic Verses). বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে, প্রাচ্যের দেশগুলো যখন রুশিদিকে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করল তখন ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠল, লেখকের স্বাধীনতার দিকটি সামনে আসল। তখন সালমান রুশদি বলেছিলেন যে, আক্রমণ বা আঘাতের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা স্বার্থকতা লাভ করে। রুশদি যা বলেন নাই তা হলো প্রত্যাঘাতের বিষয়টি। রুশদিয়ান তত্ত্বে প্রত্যাঘাত ব্যক্তির স্বাধীনতা কিনা এ বিষয়ে কিছু বলা নাই। তবে আধুনক ডিসকোর্স মনে করে, সেটি আইনি বিষয়। লেখকের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলা কবিতা অঞ্চলে সম্প্রতি কিছু কথাবার্তা গুনগুন করছে বিধায় স্বাধীনতা বিষয়ের অবতারণা। আমাদের ম্যাচুউরিটির কাল বহিয়া যায়!
সংস্কৃতি ও নৈরাজ্য সম্পর্কে ম্যাথু আর্নল্ড (Mathew Arnold) তার Culture and Anarchy: An Essay in Political and Social Criticism (১৮৬৯) গ্রন্থে বিস্তারিত বলেছেন তৎকালীন বিট্রিশ সমাজব্যবস্থার কথা। তিনি সমাজকে Barbarians, Philistine এবং Populace এই তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছিলেন। উচ্চবিত্ত শ্রেণীকে তিনি অভিহিত করেছিলেন Barbarians হিসেবে। আমাদের দেশে বর্বর শ্রেণী কোনটা- সাধারণ মানুষ না উচ্চবিত্ত বা বুদ্ধিবৃত্তি শ্রেণী, যারা আর্ট কালচার সাহিত্য করে তারা, না যারা আর্টকালচারের ভোক্তা বা অ-ভোক্তা তারা? আমাদের সংস্কৃতির নৈরাজ্য উসকে দেয় আরো কত প্রশ্ন।
প্রত্যাখানের সংস্কৃতি বা culture of rejection নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়ায়। কিন্তু এই প্রত্যাখানের সংস্কৃতি এখন পূর্ণদমে চালু আছে এই প্রাচ্য অঞ্চলে, এমনকি এই দেশেও। সামাজিক ও অর্থনিতিক মানদণ্ডে প্রত্যাখানের সংস্কৃতিকে অনেক খেসারত দিতে হচ্ছে। কিন্তু শিল্পসাহিত্যের দুনিয়ায় culture of rejection যেন অনেকটা মহিমান্বিত করে এমন ধরনের চিন্তা হাজির সমাজে। প্রত্যাখানের সংস্কৃতির সাথে অহম ও সম্মানের প্রশ্ন, রীতি ও নীতি আদর্শের প্রশ্ন নিশ্চয়ই আছে এবং সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যাখান যখন barbarians-এর দখলে যেতে থাকে তখন নীতি আদর্শের চেয়ে লোক দেখানো একটা ভাব জারি থাকে। আর্নল্ড barbarians-দের অনেক গুণগানও করেছেন, কিন্তু শ্রেণীদুর্বলতা হিসেবে বলেছেন যে, তারা enlightenment-এর অভাবে থাকে। এই barbariansরা এরিস্টোক্রেটও বটে, তবে তারা আলোকিত মানুষ নন। আমাদের সাহিত্যঅঞ্চলের বিদ্যমান প্রত্যাখ্যান ও মূল্যবোধের, স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার নৈরাজ্যের একটা কারণ অন্তত আর্নল্ডের ভাষায়sweetness and light অর্থে জ্ঞান ও সৌন্দয্যের তথা শিক্ষা ও আলোকের অভাব।
মনে পড়ে, ডরহব Wine and Resurrection নামে ১৯৯০-এর দিকে একটা বই উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। লেখকের নাম মনে নেই। টলস্টয়ের Resurrection নয়। | Wine and Resurrection নামটা দেখে ভালো লাগছিল খুব। মৃত্যুর সাথে শিল্পের সম্পর্কের সাযুজ্যে মদের সাথে পুনরুত্থানের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা! বাংলা কবিতাপাড়ায় কবিদের অবনমন বা উত্থানের সমার্থক হয়ে হাজির হয়েছে কত উপাদান, গোষ্ঠী, প্রীতি ও সিন্ডিকেট। এদের নবায়ন হয়, অবনমন হয়, ঊর্ধ্বগমন হয় না প্রায়শ লক্ষ করা যায়। প্রত্যাখ্যানের পুনরুত্থানের সম্পর্ক বাংলা কবিদের সামজিক মৃত্যু social death বা মর্যাদার মৃত্যু (death of dignityh) কি না অথবা পুনরুত্থান (resurrection) কি না তা ভেবে দেখবার অবকাশ আছে বই কি!
প্রথমত, মৃত্যু ও শিল্প, মৃত্যু ও স্বাধীনতা, এবং সংস্কৃতি ও নৈরাজ্য ইত্যাদির সম্পর্ককে একটা সরল প্রতিপাদ্য হিসাবে ধরে নিতে পারি। প্রাচীন গ্রিক নাটক বলি বা শেক্সপিয়ারের নাটক বলি বা ব্যাধের বধ বলি ইত্যাদি সবকিছুতেই মৃত্যুর সম্পর্ক এদেরকে শিল্পরূপ করে তুলেছে বা অন্য কথায় মৃত্যু নিজেই শিল্প হয়ে হাজির হয়েছে।
মৃত্যু ও শিল্প বিষয়ে ভাবলে আমার অনন্য রায়, সিলভিয়া প্লাাথ, হেমিংওয়ে, জন বেরিম্যান প্রমুখের কথা মনে পড়ে। কে আর অমন উচ্চারণ করতে পারে সিলভিয়া প্লাথ (Sylvia Plath) ছাড়া। যখন তিনি বলেন মৃত্যু হচ্ছে শিল্প।
Dying
is an art.
Like
everything else,
I
do it exceptionally well.
I
do it so it feels like hell.
আর আমারা যদি জীবনানন্দ দাশের দিকে তাকাই তাহলে তো মৃত্যু ও ধূসরতার চিরকালীন বেদনাভারা আনন্দ দেখি। বেদনার সেই আনন্দ মূলত শিল্পসৌন্দর্য্যের আনন্দ। আরা ট্রাম দুর্ঘটনায় জীবনানন্দের মৃত্যু যেন শেষ পর্যন্ত কাহিনির মতো কবিতার চিরনায়কের মৃত্যু। ‘মৃত্যুর আগে’র শেষ স্তবকে কী বলেন তিনি, শুনি:
আমরা মৃত্যুর আগে কী বুঝিতে চাই আর? জান না কি আহা
সব রাঙা কামনিার শিয়রে যে দেয়ালের মতো এসে জাগে
ধূসর মৃত্যুর মুখ;- একদিন পৃথিবীতে স্বপ্ন ছিল- সোনা ছিল যাহা
নিরুত্তর শান্তি পায়; যেন কোন মানবীর প্রয়োজনে লাগে।
কি বুঝিতে চাই আর; রৌদ্র নিভে গেলে পাখ-পাখালির ডাক
শুনিনি কি, প্রান্তরের কুয়াশায় দেখিনি কি উড়ে গেছে কাক!
আর রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুকে বলেছেন শ্যামের সমান। বরিস পাস্তারনেকও মৃত্যুর সাথে আর্টের নিবিড় সম্পর্কের কথা বলেছেন। মৃত্যুর সাথে, মৃত্যুচিন্তার সাথে শিল্পের এই সম্পর্ক ও যোগাযোগ চিরকালীন শিল্প ও সৌন্দর্যবোধের যোগাযোগ।
তবে মৃত্যু ও স্বাধীনতা সম্পর্ক ভালো করে বুঝতে হলে ‘সোফি’স চয়েস’(Sophie's Choice) ছবিটির উদাহরণই যথেষ্ট। চাইলে ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ও (Blood Diamond) দেখা যেতে পারে। আপনি যখন স্বাধীনতা চান মৃত্যু তখন অবধারিত, আর মৃত্যু যখন চান তখন আপনি পরিপূর্ণ স্বাধীন মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। মৃত্যু ও স্বাধীনতার সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংষ্কৃতির সম্পর্কও খুব পাতলা নয়, সাহিত্যেরও।
ব্যক্তির স্বাধীনতাও বড় বিষয়। কেবল বাকস্বাধীনতা নয়, সকল ধরনের স্বাধীনতা ব্যক্তি ভোগ করতে পারে কোনো বিধি নিষেধ আরোপ ছাড়াই। অরণ্যে রোদন করা যেমন অর্থহীন, নির্জনে ব্যক্তির স্বাধীনতাও অর্থহীন। ব্যক্তি তার স্বাধীনতা রক্ষার্থে যা যা করে তাই স্বাধীনতা, আর্নল্ড যেমনটা বলেছেন, Ôpassion for doing as one likes, for the assertion of personal libertyÕ. কিন্তু রাষ্ট তা মানবে কেন? বরং স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ আরোপই যেন রাষ্ট্রের প্রধান কাজ। বাংলাদেশের দিকে তাকালে সহজেই তা অনুমেয়। কিন্তু স্বাধীনতা অর্থবহ হয় যখন রাষ্ট্র হস্তক্ষেপ থেকে নিবৃত্ত থাকে। আর্নল্ড বলেন, "A liberal believes in liberty, and liberty signifies the non-intervention of the State.Ó কিন্তু তেমনটি আর হয় না। স্বাধীনতাও সাপেক্ষের ব্যাপার। বরং পশ্চিমা ডিসকোর্সে স্বাধীনতা অর্থপূর্ণ হয় আক্রমণ করার মাধ্যমেই। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ সালমান রুশদির (Salman Rushdie) স্যাটানিক ভার্সেস (Satanic Verses). বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে, প্রাচ্যের দেশগুলো যখন রুশিদিকে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করল তখন ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠল, লেখকের স্বাধীনতার দিকটি সামনে আসল। তখন সালমান রুশদি বলেছিলেন যে, আক্রমণ বা আঘাতের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা স্বার্থকতা লাভ করে। রুশদি যা বলেন নাই তা হলো প্রত্যাঘাতের বিষয়টি। রুশদিয়ান তত্ত্বে প্রত্যাঘাত ব্যক্তির স্বাধীনতা কিনা এ বিষয়ে কিছু বলা নাই। তবে আধুনক ডিসকোর্স মনে করে, সেটি আইনি বিষয়। লেখকের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলা কবিতা অঞ্চলে সম্প্রতি কিছু কথাবার্তা গুনগুন করছে বিধায় স্বাধীনতা বিষয়ের অবতারণা। আমাদের ম্যাচুউরিটির কাল বহিয়া যায়!
সংস্কৃতি ও নৈরাজ্য সম্পর্কে ম্যাথু আর্নল্ড (Mathew Arnold) তার Culture and Anarchy: An Essay in Political and Social Criticism (১৮৬৯) গ্রন্থে বিস্তারিত বলেছেন তৎকালীন বিট্রিশ সমাজব্যবস্থার কথা। তিনি সমাজকে Barbarians, Philistine এবং Populace এই তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করেছিলেন। উচ্চবিত্ত শ্রেণীকে তিনি অভিহিত করেছিলেন Barbarians হিসেবে। আমাদের দেশে বর্বর শ্রেণী কোনটা- সাধারণ মানুষ না উচ্চবিত্ত বা বুদ্ধিবৃত্তি শ্রেণী, যারা আর্ট কালচার সাহিত্য করে তারা, না যারা আর্টকালচারের ভোক্তা বা অ-ভোক্তা তারা? আমাদের সংস্কৃতির নৈরাজ্য উসকে দেয় আরো কত প্রশ্ন।
প্রত্যাখানের সংস্কৃতি বা culture of rejection নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা হচ্ছে পশ্চিমা দুনিয়ায়। কিন্তু এই প্রত্যাখানের সংস্কৃতি এখন পূর্ণদমে চালু আছে এই প্রাচ্য অঞ্চলে, এমনকি এই দেশেও। সামাজিক ও অর্থনিতিক মানদণ্ডে প্রত্যাখানের সংস্কৃতিকে অনেক খেসারত দিতে হচ্ছে। কিন্তু শিল্পসাহিত্যের দুনিয়ায় culture of rejection যেন অনেকটা মহিমান্বিত করে এমন ধরনের চিন্তা হাজির সমাজে। প্রত্যাখানের সংস্কৃতির সাথে অহম ও সম্মানের প্রশ্ন, রীতি ও নীতি আদর্শের প্রশ্ন নিশ্চয়ই আছে এবং সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রত্যাখান যখন barbarians-এর দখলে যেতে থাকে তখন নীতি আদর্শের চেয়ে লোক দেখানো একটা ভাব জারি থাকে। আর্নল্ড barbarians-দের অনেক গুণগানও করেছেন, কিন্তু শ্রেণীদুর্বলতা হিসেবে বলেছেন যে, তারা enlightenment-এর অভাবে থাকে। এই barbariansরা এরিস্টোক্রেটও বটে, তবে তারা আলোকিত মানুষ নন। আমাদের সাহিত্যঅঞ্চলের বিদ্যমান প্রত্যাখ্যান ও মূল্যবোধের, স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার নৈরাজ্যের একটা কারণ অন্তত আর্নল্ডের ভাষায়sweetness and light অর্থে জ্ঞান ও সৌন্দয্যের তথা শিক্ষা ও আলোকের অভাব।
মনে পড়ে, ডরহব Wine and Resurrection নামে ১৯৯০-এর দিকে একটা বই উল্টেপাল্টে দেখছিলাম। লেখকের নাম মনে নেই। টলস্টয়ের Resurrection নয়। | Wine and Resurrection নামটা দেখে ভালো লাগছিল খুব। মৃত্যুর সাথে শিল্পের সম্পর্কের সাযুজ্যে মদের সাথে পুনরুত্থানের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা! বাংলা কবিতাপাড়ায় কবিদের অবনমন বা উত্থানের সমার্থক হয়ে হাজির হয়েছে কত উপাদান, গোষ্ঠী, প্রীতি ও সিন্ডিকেট। এদের নবায়ন হয়, অবনমন হয়, ঊর্ধ্বগমন হয় না প্রায়শ লক্ষ করা যায়। প্রত্যাখ্যানের পুনরুত্থানের সম্পর্ক বাংলা কবিদের সামজিক মৃত্যু social death বা মর্যাদার মৃত্যু (death of dignityh) কি না অথবা পুনরুত্থান (resurrection) কি না তা ভেবে দেখবার অবকাশ আছে বই কি!
0 Comments