বঙ্গ রাখাল এর সাক্ষাৎকার

Interview with Banga Rakhal (Selected 20)



বঙ্গ রাখাল দ্বিতীয় দশকের প্রতিশ্রুতিশীল কবি ও গবেষক। তার জন্ম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানাধীন গোলকনগর গ্রামে। তিনি সাভার গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা স্কুল অফ ইকনোমিকস থেকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইকোনমিকস ডিগ্রী এবং গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র থেকে গণহত্যার উপর পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী অর্জনসহ বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনীর সদস্য।

কবি’র প্রকাশিত গ্রন্থ- সংস্কৃতির দিকে ফেরা (প্রবন্ধ, ২০১৫), লোক মানুষের গান ও আত্ম অন্বেষণ (গবেষণা, ২০১৬), মানবতাবাদী লালন জীবন অন্বেষণ (প্রবন্ধ, ২০১৭), হাওয়াই ডাঙ্গার ট্রেন (কবিতা, ২০১৮), মনীষা বীক্ষণ ও অন্যান্য (প্রবন্ধ, ২০১৮), অগ্রন্থিত রফিক আজাদ (সম্পাদনা, ২০১৯), পাগলা কানাই ও তাঁর তত্ত্ব দর্শন (সম্পাদনা, ২০১৯), লণ্ঠনের গ্রাম (কবিতা-২০১৯), যৈবতী কন্যা ইশকুলে (কবিতা, ২০২০), কবিতার করতলে (প্রবন্ধ, ২০২০), অন্ধ যাজক (কবিতা-২০২১), ছোটবোয়ালিয়া-জয়ন্তীনগর-বসন্তপুর গণহত্যা (অভিসন্দর্ভ-২০২১), কবিতায় ঘর-বসতি (প্রবন্ধ-২০২২)

তিনি প্রবন্ধে পেয়েছেন- আবুল মনসুর আহমদ পুরস্কার ২০২০। সম্পাদনা করেছেন ছোট কাগজ : নিহারণ


বাংলা সাহিত্যের সম্ভাবনাময় এই কবি ও গবেষক তাঁর জীবন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নানান বিষয়ে কথা বলেছেন। বামিহাল এর  পক্ষে কবি, বঙ্গ রাখালের মুখোমুখি হয়েছেন রনি বর্মন।



লেখালেখির শুরুর গল্পটা জানতে চাই। ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল? প্রথম প্রেরণা, উস্কানি বা        তাড়না কেন মাথায় চেপে বসেছিল।

বঙ্গ রাখাল : লেখালেখিতে আসা কোন প্লান করে না কিংবা কোনদিন লেখালেখি করব বলেও মনে হয়নি। তবে ছোটবেলায় মায়ের কাছে শুয়ে শুয়ে অনেক গল্প শুনেছি। স্কুলে পড়া অবস্থায় গ্রাম থেকে প্রবাদ-প্রবচন সংগ্রহ করতাম। অনেক ভাল লাগতো। গ্রামে মঞ্চনাটক করেছি- এভাবেই কখন যে লেখালেখিতে চলে এসেছি তা বলাটা মুশকিল। তবে অনেক ডাইরী লেখেছি ছোটবেলায় কারও সাথে তর্ক-বিতর্ক হলেও তা ডাইরীতে লেখে রাখতাম। এভাবেই হয়তো শুরু হবে আরকি। আমার প্রথম প্রেরণা বললে বলতে হয় আমার এক শিক্ষকের কথা তিনিই আমাকে বই পড়তে বলেছিলেন। কারণ তিনি আমাদের নাটক দেখে এত খুশি হয়েছিলেন যে পরেনদিন আমাকে বলেছিল তুমিতো আমার অনেক বই দেখেছো এখান থেকেও বই নিয়ে পড়তে পার আবার কিনেও পড়তে পার। তখন আমি তার কথা মতো আমাদের স্থানীয় এক লাইব্রেরি থেকে ‘ফুটন্ত গোলাপ’ এবং অন্য একটা বই কিনেছিলাম- (অন্যটি কি ছিল তা আর মনে করতে পারছি না)। পরে স্যারকে বললাম এই যে  এই বই কিনেছি। তিনি তখন বললেন এসব বই না তোমাকে পড়তে হবে শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ বা নজরুলের বই। এভাবেই তিনি আমাকে বই পড়তে শিখিয়েছেন আবার আমি ছোটবেলা ‘বোধদয়’ নামে স্কুলে পড়তে এসেও বই পড়তে শিখেছি। কেননা সেখানে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় হয়ে অনেক গল্পের বই পেয়েছি। সেটা পেয়েও দিনদিন আগ্রহ বেড়েছে সাহিত্যের প্রতি। আর এ পথে আসতে তো অনেক কথা শুনতে হয়েছে তা তো বলে শেষ করা যাবে না। প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলা যায়-আমার বাবা একবার লালনের গান শুনিয়ে বলেছিল- বাবা এমন পদ রচনা করতে পারবে- আমি সেদিন না বুঝেই বাবাকে বলেছিলাম -হ্যাঁ। এসব ভাবেই হয়তো এই লাইনে আসা...

কী লিখতে এসেছিলেন? কবিতায় আপনার স্বপ্ন এবং সত্তাকে ধরতে পেরেছেন?

বঙ্গ রাখাল: আমি মূলত কবিতা লেখতেই এসেছি। তবে কবিতার পাশাপাশি কবিতা বিষয়ক প্রবন্ধ, গবেষণা নিয়েও কিছুটা কাজ করেছি। এটা কোন পূর্ণাঙ্গ কাজ বলা যাবে না। তবে আমি একমাত্র কবিতা করতেই এসেছি। এই মাধ্যমে অনেক কিছু বলার আছে অনেক কিছু বলতে চাই। মানুষ তো তার স্বপ্নের সমান বড়। প্রতিনিয়তই আমাদের অনেক বলার থাকে এবং তা আমরা বলতেও চাই। আমি আমার কথা বলতেই এসেছি এবং তা বলেও চলেছি নিয়মিত আমার লেখার মাধ্যমে। আর একজন লেখক তো সারা জীবন ধরে লেখার মাধ্যমেই তার কথা বলে চলেন। তবে আমি আমার সত্তার তালাশ করে চলেছি। কোন কিছু নিজের করতলে এসে নতি স্বীকার করলেই তো আগ্রহ শেষ হয়ে গেল।  হয়তো একদিন তার সন্ধানও মিলবে। হয়তো মিলবে না সারা জীবনই সেই সত্তার সন্ধানেই এই প্রয়াস...

আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠক সমাজে কেমন সাড়া ফেলেছিল?

বঙ্গ রাখাল: আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ পাঠক সমাজে কতটা সাড়া ফেলেছে তা তো বলতে পারব না। তবে পাঠক এটাকে গ্রহণ করেছিল। অনেকে এটা নিয়ে লিখেছেনও। যেমন আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থের ‘ও বন্ধু শ্যামল’ কবিতাটি অনেকেই আবৃত্তি করেছিল। এই কবিতাটি আমার নিজেরও অনেক প্রিয় ছিল এবং আছেও বটে। কিরাম কিরাম লাগে, রাষ্ট্রে কলমের দাম নেই, কৈতর, ট্রেন এক্সপ্রেস, সাতমাথার বেহুলা, ও কৃষ্ণ ও রাধা, ওঝা, থৈ থৈ অসুখ কবিতাগুলো অনেকের মুখেই শুনেছি। কেউ উচ্চারণ করলেই অনেক ভালো লাগত। এসব কিছু দেখে বা শুনে মনে হয় কিছু মানুষকে অন্তত ভাল লেগেছে আমার কবিতা এটাই তো কবির সার্থকতা...

প্রায় লেখক সম্মানী/রয়েলিটির বিষয়ে প্রকাশকদের বিরুদ্ধে অভিয়োগ করেন। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

বঙ্গ রাখাল: এটা নিয়ে আমাদের সবার মধ্যেই এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার তো থেকেই যায়। আমি আমার নিজের দিয়ে যে ব্যাপারটি বুঝেছি- নিজেদের মধ্যে যদি সঠিক চুক্তি থেকে থাকে তাহলে তো আর কোন ভুল বোঝাবুঝি হয় না। যখনই আমাদের মধ্যে সঠিক চুক্তি থাকবে না তখনই তো ভুল বোঝাবুাঝর সৃষ্টি হয়। তাই কোন কাজ কারও সাথে করার আগে সেই ব্যাপারে দুজনের মধ্যেই সঠিক চুক্তি থাকা উচিত।

কবিতা কি কেবলই অদৃশ্য কোনো ইশারায় ন্যস্ত কোনো শিল্প?

বঙ্গ রাখাল: এটা আমি মনে করি না। অনেকে বলতে পারেন আসলে আমি লিখি না। আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়। অনেকে তা মনেই করতেই পারে। তবে নিজের সাথে নিজের এক আত্মসংযোগের মাধ্যমেই তো কবিতা রচিত হয়। আজ আমরা আত্মসংযোগ স্থাপন করতে পারি না বলেই তো আমাদের কবিতা হয় না। আর একটা কবিতার জন্য কবি জীবনে- যাপনের প্রয়োজন হয়। আর আজ সেই জিনিসটার বড়ই অভাব। কবিতা হওয়ার জন্য কবিতার জন্য কবিকে কবিতায় আত্মনিয়োগের ফলেই কবিতা ধরা দেবে। নিজের নিবেদনই মুখ্য। এখানে অদৃশ্য মিশ্য মুখ্য না।

বাংলা কবিতার ধারায় আপনার কবিতা আপনার নিজের কাছে কেমন লাগে? বা যদি বলি এই সময়ে এসে নতুন কী কী সংযোজন করেছেন বলে মনে হয় আপনার কবিতায়?

বঙ্গ রাখাল: বাংলা কবিতার ধারায় আমার কাছে তো আমার কবিতা আমার মতোই মনে হয়। কেননা আমি তো বলতে এসেছি আমার কথা। আর সেটা আমার মতো হওয়াটা স্বাভাবিক। আমি আমার মত করে আমার কথা বলতে চাই। অন্যকে অনুকরণ করে আমি বলতে আসিনি। আসলে কবিতার ভাষা তো পরিবর্তনশীল। চর্যাপদের ভাষা কেমন ছিল? সেই ভাষাও তো পরিবর্তন হয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। আজ আমি যে ভাষায় কবিতা লিখছি সেটাও অনেকটাই তো পরিবর্তিত হয়ে আজকের কবিতার ভাষা হয়েছে আবার কালকেও যে এটা থাকবে সেটা কি সঠিকভাবে বলা যায়। আর সংযোজন বা বিয়োজন তো আমার কবিতা পড়লেই বুঝতে পারবেন। এ বিশ্লেষণ আপনাদের বিা পাঠকদের...

কবিতায়  দশক নিয়ে আপনার কী ভাবনা?

বঙ্গ রাখাল: কবিতার দশক নিয়ে আমাদের দেশে এক ধরনের বাজে গোষ্ঠীবাজী শুরু হয়েছে। কারণ অনেকে এমন অবস্থা সাহিত্য করতে আসেনি তারা ব্যবসা করতে এসেছে। তারা নিরপেক্ষভাবে কোন কাজ না করে নিজেদের পরিচিতদের কাজ থেকে কবিতা নিয়ে সংকলন করেন। আবার অন্যের সংকলন দেখলে তাদের চোখ কপালে ওঠে। এমন কি সেসময় তারা নিজেদের ছাড়া অন্যদের কবি হিসেবেও মনে করেন না। তাদের এসব ভাব দেখে মনে হয় তারা সাহিত্যের জায়গাকে ইজারা নিয়েছে। আবার এমন অনেকে আছেন যারা সব দশকের সংকেলনেই থাকতে চান। হোক না প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ... এগুলো বাদ দিয়ে দশক হিসেবে কবিকে সনক্ত করাটা মন্দ কিছু না। কে কখন আসল কিংবা কারও উন্মেষকালটা জানা কোন দোষের কিছু না।

এই সময়টায় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় লেখালেখির চ্যালেঞ্জ কি? লেখকের দায়ের জায়গাটা কেমন করে দেখেন? আপনি নিজেই বা ব্যাপারগুলা কেমন করে ডিল করেন?

বঙ্গ রাখাল:  আসলে লেখালেখির জন্য কোন কালই কবি লেখকদের অনুকূলে ছিল না। তাদের সর্বদা সংগ্রাম করেই রাষ্ট্রে টিকে থাকতে হয়েছে। তবে অতীতের চেয়ে আমাদের সাহস অনেকটা কমেছে। আমরা আপোষ করে টিকে থাকতে চাই। যে কারণে আমরা আজ মেরুদণ্ড টান টান করে কোন কথা সঠিকভাবে বলতে পারিনা। যে কারণে আমরা আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগি। এবং যা বলতে চাই তা সঠিকভাবে বলতেও পারি না। আমিও আজ এই সিস্টেমের বাইরের কেউ না। এজন্যই আজ আমাদের এত হাপিত্যেস...

লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে তথাকথিত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় আপনার বিশ্লেষণ কী?

বঙ্গ রাখাল: আসলে যারা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কথা বলেন এটাও মূলত প্রতিষ্ঠার অন্য এক লাইন। কারণ সবাই যখন প্রতিষ্ঠার কথা বলছে তখন আমরা বিরোধিতার কথা বলে অন্যকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি নিজের দিকে এটাও কি প্রতিষ্ঠার অন্য লাইন না। আর যদি প্রতিষ্ঠান বিরোধিই হতে হয় তাহলে সবই বাদ দিয়ে নিরবে নিভৃতে কাজ করলেই তো হয়। এখানে ধোঁয়া তুলছি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে... আমরা কথা বলছি... নিজেই আবার কোন না কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি অথবা নিজেই একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে বসে আছি। এরই না বুঝি প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। যে সত্যিই এটা অন্তরে ধারণ করবে সে তো হবে মহাসাধক যার কোন লোভ থাকবে না। সে নিজে নিজেই সন্ন্যাসজীবন-যাপন কবে এবং তার দর্শনকে ঘুরে ঘুরে মানুষকে শোনাবে এমন সাধক কি আজ আছে। অথচ আপোষ করে চলা কি করে হতে পারে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা।

আপনার সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন নিহারণ’  মূলত কোন কনসেপ্ট ধারণ করে। কেন?

বঙ্গ রাখাল: আমি আসলে গ্রামে থাকা অবস্থা নিহারণ পত্রিকাটা শুরু করেছিলাম। আসলে এটা ছিল অনেকের লেখা নিয়ে প্রকাশ করার জন্য। যারা ভাল লেখে অথচ এলাকার বাইরে যাদের কোন মূল্য নাই তাদের লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই আমরা পত্রিকাটা করা শুরু করেছিলাম।

ওয়েবম্যাগ কি লিটলম্যাগের পুরিপূরক হতে পারে?

বঙ্গ রাখাল: আসলে আমি যদি আমার কথা বলি তাহলে বলতে পারি ওয়েবম্যাগ ওয়েবম্যাগই। এটা কোনদিনই লিটলম্যাগের পরিপূরক হতে পারে না। আমার বিশ্বাস হতেও পারবে না। কারণ একটি ওয়েবম্যাগের হয়তো আজকের যুগে অনেক গুরুত্ব। কিন্তু কিছু সিস্টেম অমান্য করলেই ওই ম্যাগের লেখাগুলো আর কোনদিনই সন্ধান করে আমরা পেতে পারি না। কিন্তু একটা ছাপা লিটলম্যাগ সব সময়ই তার চাহিদা পূরণ করে যেতে সক্ষম। আসলে আমরা যতই গতিশীল জীবন যাপন করছি ততই যেন আমাদের পা ছিটকে পড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

আপনার মতে লিটলম্যাগের ভবিষ্যৎ কি?

বঙ্গ রাখাল: আসলে এভাবে আমি তো আর কোন কিছুর ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারি না। তবে বলতে পারি ওয়েবম্যাগের যুগে লিটলম্যাগের ভবিষ্যৎ কি আমি আপনি আমরা সবাই বুঝতেই পারছি। তবুও জোর গলায় বলতে পারি এটাই শেষ কথা না। লিটলম্যাগ লিটলম্যাগের জায়গা দখল করেই দাঁড়িয়ে থাকবে। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আগের চেয়ে এখন কাগজ কম প্রকাশিত হচ্ছে । না কম না। বরং বেশিই প্রকাশিত হচ্ছে তাহলে বলবেন কিভাবে এর ভবিষ্যত খারাপ।

লেখালেখিতে পড়াশোনা, সংগঠন আড্ডার গুরুত্ব কতটুকু বলে আপনি মনে করেন? লেখায় এর প্রভাব পড়ে কিভাবে?

বঙ্গ রাখাল: একজন মানুষ লেখালেখি করলে পড়ালেখা বা আড্ডার প্রভাব তার লেখার উপর পড়বে। আর যদি বলেন লেখাপড়া বলতে সার্টিফিকেটকে বোঝাচ্ছেন তাহলেও বলবো এটা থাকতে তো হবেই। না থাকলে তো আপনাকে সমাজে দাঁড়াতেই দিবে না। আর আপনাকে এই সমাজে কথা বলতে হলে তো সার্টিফিকেট নামের লেখাপড়া করে এসে তবেই তো কথা বলতে হবে। তবে এই সার্টিফিকেটের লেখাপড়া লেখালেখির ক্ষেত্রে শূন্যস্থান দক্ষল করে আছে বলে মনে করি। নিজেকে জানার জন্য নিজের স্ব স্ব পড়ার বিকল্প নেয়। একজন লেখকের জন্য পর্যবেক্ষণ শক্তিটা অনেক দরকারী। অনেকে সার্টিফিকেট বাদেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে দেখিয়ে কি দেয়নি যে লেখালেখির জন্য লেখাপড়াটা কতটা দরকারী। আর একজন মানুষ সঠিকভাবে সাহিত্যচর্চা করতে চাইলে তাকে আড্ডাবাজ তো হতেই হবে কেননা আড্ডাতেও আমরা অনেককিছু আবিষ্কার করতে পারি। আবার অনেক লেখক তো অনেকের সন্ন্যাসজীবন যাপন কিংবা একার জীবনের কথায়  বলেছেন। এটা ধরলে তো আড্ডা মানে সময়কে হারিয়ে ফেলানোকেই বোঝায়... একজন মানুষ যদি সংগঠক হয়ে ওঠে তাহলে তাকে লেখালেখিটা সঠিকভাবে চালিয়ে নেওয়াটা অনেক দুরুহ হয়ে ওঠে। কারণ সংগঠকের কাজ করতে এসে কেউ সঠিকভাবে সাহিত্যচর্চা করতে পারবে না। কেউ পারলে তো সেটা অনেক পাওয়া...

কবিতা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা তারুণ্যের দায় সম্পর্কে জানতে চাই।

বঙ্গ রাখাল: আসলে ভবিষ্যত নিয়ে আমি কোন কিছু ভাবি না। সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি সময়ের হাতে। যা হবার তা ঠিক ঠিকই হয়েই যাবে। আর অনেকে লেখালেখিতে আসাকে অনেক দায় মনে করেন। আসলে আমি মনে করি না । কারণ আমি কোন দায় থেকে লেখালেখি করতে আসিনি। আসলে আমি এসেছি আমার কিছু কথা বলতে । যা বলতে চাই একান্ত আমার নিজের কথা। এতে কেউ কেউ কোনকিছু মনে করলেও আমার কিছু যাই আসে না। তবে হ্যাঁ তারুণ্যের দায় না থাকলেও তারা যে সব কথা বলেন সেসব কথার মধ্যেই তো মানবিকতা , প্রেম ভালোবাসার কথা বা অনেক নীতিনৈতিকতা, সমাজবিনির্মাণের কথার মিশ্রণ থাকে আর এগুলো কেউ নিজের জীবনে ধারণ করলেই তো সুন্দর সমাজ গঠিত হবে। এখানে আলাদা করে দায় বলে কি আছে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

বঙ্গ রাখাল: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Post a Comment

0 Comments