রুদ্র সুশান্ত’র গদ্য ~পর্দা ছিঁড়ে ফেলার স্পর্দা থাকতে হবে প্রত্যেক নারীর



আমাদের দেশে "নারী মুক্তি" নামে কোন আন্দোলন হওয়ার দরকার নেই। তবে একজন নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করার জন্য পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পঁচা ট্যাবু ভেঙ্গে ফেলতে নারীদের জাগ্রত হওয়ার প্রয়োজন আছে। আত্ম জাগ্রতবোধ উদয় না হলে নারীদের সম্মান করার জায়গায় প্রকৃতপক্ষে ঘাটতি রয়ে যাবে, যেই ঘাটতির কারণে আমাদের পারিবারিক এবং দাম্পত্য জীবনে দিন দিন কলহ এবং বিচ্ছেদ বাড়ছে।

যেই মানুষটা আপনার জন্য এত কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে, হাত পুড়িয়ে রান্না করলেন সেই মানুষটার রান্না করা খাবার খেতে বসে আপনি যদি বলেন- লবণ ঠিকমত হয়নি, ঝাল বেশি হয়েছে, জল আরো কম দেওয়া উচিত ছিল হেন-তেন নানান হাবিজাবি কথাবার্তা তবে আপনার স্ত্রীর হাতের রান্না খাওয়ার মত যোগ্যতা এখনো অর্জন হয়নি। 


যে পুরুষ অফিস থেকে ফিরে আসার সময় স্ত্রীর জন্য একটা ন্যূনতম চকলেট, ছোট্ট যেকোন একটা আপনার স্ত্রীর পছন্দের জিনিস অথবা একটা পাঁচ টাকা দামের গোলাপ ফুল নিয়ে আসেন না সেই পুরুষ বাসায় ফেরার পরে যদি নানান কাজে স্ত্রীর ভুল ধরেন তবে তার প্রতি ঘৃণা জন্মানো ছাড়া স্ত্রীর আর কোন উপায় থাকে না। একজন পুরুষ বাসায় ফিরে এসেই নানান অজুহাতে নানান কারণে স্ত্রীর উপর কর্তৃত্ব করার এই মনোবৃত্তি ঝেড়ে ফেলতে হবে। বুঝতে হবে এই নারী সারাদিন আপনার মুখের দিকে চেয়ে থাকেন, কখন আপনি তাকে একবার প্রশান্তির কথা বলবেন, কখন আপনি থাকে একবার ভালোবাসার কথা বলবেন, কখন আপনি তাকে একবার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এরকম একটা কথা বলবেন! 

যেই মানুষটা আপনার জন্য এত কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে, হাত পুড়িয়ে রান্না করলেন সেই মানুষটার রান্না করা খাবার খেতে বসে আপনি যদি বলেন- লবণ ঠিকমত হয়নি, ঝাল বেশি হয়েছে, জল আরো কম দেওয়া উচিত ছিল হেন-তেন নানান হাবিজাবি কথাবার্তা তবে আপনার স্ত্রীর হাতের রান্না খাওয়ার মত যোগ্যতা এখনো অর্জন হয়নি। 

আমাদের সমাজের প্রত্নতাত্ত্বিক যে ধারণা 'স্বামীরা স্ত্রীর উপর প্রভূত্ব করবেন' এই ঘৃণিত কনসেপ্ট পরিবর্তন করতে হবে। প্রথমেই পরিবর্তন আসতে হবে পরিবার থেকে, প্রত্যেক পরিবারের প্রত্যেকজন নারীর মর্যাদাবোধের যে জায়গা আছে সেটার প্রাথমিক অবস্থা পরিপূর্ণ করতে হবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এই সংবাদটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পৌঁছাতে হবে যে নারী কোন খেলার প্রাচীন পুতুল নয়।

কর্মব্যস্ততা সেরে বাসায় ফিরে এসে আপনি স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একবার শুধু বলুন- "আমার বউয়ের চোখ গুলো কত সুন্দর, আমার বউটা খুবই কিউট, আমার বউয়ের হাতের রান্না আমার খুবই পছন্দ, বউটা সারাদিন আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকে"। এই ধরনের যে কোন একটা কথা আপনি আপনার স্ত্রীকে বলে দেখুন সেই ভদ্রমহিলা নিজের কলিজা কেটে আপনাকে দিয়ে দিবেন। একজন নারীকে সম্মান করতে শিখুন, নিজের স্ত্রীকে সম্মান করতে করুন, প্রত্যেক নারীকে সম্মান করুন, দেখবেন আপনার কন্যা সন্তানটি আপনাকে সম্মান করছেন, আপনার পরিবার আপনাকে সম্মান করছেন, পাড়া-প্রতিবেশীর লোকজন আপনাকে সম্মান করছেন, সমাজের লোকজন আপনাকে আলাদা একটা ভক্তি-শ্রদ্ধার চোখে দেখবেন।

নারীর প্রতি আলাদা কোন অনুগ্রহ কিংবা কৃপা করার কোন প্রয়োজন নেই, একবিংশ শতাব্দীতে একজন নারীর এতটুকুই প্রয়োজন- "তাকেও একজন মানুষ হিসেবে দেখা হোক, তাকে যেন পুরুষতান্ত্রিক ইন্দ্রজাল কেটে বের হয়ে তারপর নিজের পথ সৃষ্টি করতে না হয়।" 


Post a Comment

0 Comments