দু’টি কবিতা
শেষ পর্যন্ত ট্রেন ছেড়ে গেলে
শেষ পর্যন্ত আড়াল হলো হৃদয়পুর জংশন
কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে থামানো গেলোনা
রাতের শেষ ট্রেন ছেড়ে গেলে স্টেশনে জমে
কিছু ছেঁড়া ঠোঙায় মোড়ানো বাদামের খোসা
ওয়েটিং রুমের লক্কর ঝক্কর ফ্যানটা চলে
তখনও ঘটাং ঘটাং শব্দের ছিন্ন বীণার তালে
ভুঁতুড়ে অন্ধকারের ভেতরে পায়চারি করে যুবক
পকেটের টাকা আর সিগারেটের পরিমাণ শীতার্ত
রাত্রির মতো ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে
ময়লা চাদর কাঁধে ফেলে অপেক্ষা করে একটা
স্যুটকেসের, যে আজ সন্ধ্যায় আসবে বলেছিলো
কাঁদতে কাঁদতে বুকের মধ্যে মুছে গেছিলো
কমনীয় ঠোঁটের সবটুকু গোলাপি লিপস্টিক
চোখের নরম কাজল যেন শীর্ণকায় মহুয়া নদী
বেকারত্বের দোহাই দিয়ে যুবক খুঁড়েনি কবর
আকাশে বাতাসে জানান দিয়ে চিৎকার করে
বুকের ভেতর কতগুলো বুলবুলি আর ময়না
কথা ছিলো যুবতী আসবে আলতা রাঙা পায়ে
বিষণ্ণ রাজহাঁস বসে থাকে মৃত নদীর তীরে
যুবকের লাশ পড়ে ছিল ঠিক তার পাশে।
জলঘুঙুরের শব্দ
তরঙ্গহীন নদীর বিস্তৃতি কতদূর গেলে
এক একটি জোয়ারের শব্দ শোনা যাবে
নদীর তীরে জ্যোৎস্নারাতে শোনা যায়
জলঘুঙুরের শব্দ
কে যেন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদে
আমি কী কাঁদি না আমার আত্মার আর্তনাদ
গত বছরে ভেসে এসেছিলো আব্রুহীন লাশ
তখনও তার জঙ্ঘা উরুতে দাঁতাল কামড়
জরায়ু ছেঁড়া রক্তের দাগ মানচিত্র এঁকেছিল
নদীতে ভাটির টান
সমুদ্রে জোয়ার এলে শুকিয়ে যায় প্রেমিকার চোখ
তখন তাকে আর কিছুই স্পর্শ করেনা
জ্যোতিষীর বিশ্বাস ভেঙে দিয়ে কেউ আসেনা
বালিকার কানে এখনো জলঘুঙুরের শব্দ
এখনো সে অপেক্ষা করে!


0 Comments